আবাসিক হোটেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত : যৌনকর্মী-খদ্দেরসহ ৪৭ জনের কারাদন্ড

0
2422
Print Friendly, PDF & Email

রেজাউল সরকার (আঁধার), গাজীপুর : গাজীপুরের হোতাপোড়া এলাকায় আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপের জড়িত থাকার দায়ে যৌনকর্মী ও খদ্দেরসহ ৪৭ জনকে কারাদন্ড দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার হোতাপাড়া এলাকার রোজভ্যালী আবাসিক হোটেলে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গাজীপুরের এনডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট বিএম কুদরত-এ-খুদা জানান, হোতাপাড়া এলাকায় রোজ ভ্যালী আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীরের নির্দেশে শুক্রবার বিকালে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে ওই হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকায় দায়ে ২৬ জন নারী ও ২১ জন পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ২১ নারীকে ১৫ দিন করে এবং ২৬ পুরুষকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত সবাইকে গাজীপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় সহযোগিতায় ছিলেন আনসার সদস্যরা।

রোজ ভ্যালী আবাসিক হোটেলে এর আগেও অভিযান চালানো হয়েছিল বলেও জানান তিনি।।

এর আগে গত ১৭ জুন থেকে বিভিন্ন সময়ে গাজীপুরের বেশ কিছু আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে শতাধিক নারী-পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। এরপর প্রায় দুই মাস এসব আবাসিক হোটেল বন্ধ থাকার পর বুধবার থেকে ফের আবাসিক হোটেলগুলো খুলে তাতে অসামাজিক কার্যক্রম শুরু হলে স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিএম কুদরত-এ-খুদা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাসেল মিয়ার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে ওই ৪৭ নারী-পুরুষকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

উল্লেখ্য: গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে শনিবার রোজ বেলী এবং হোটেল বৈশাখীতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফিন এর নেতৃত্বে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট একেএম গোলাম মোর্শেদ খান ও রাসেল মিয়া অভিযান চালিয়ে ২০জন নারীসহ ৩২জন গ্রেপ্তার করে। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রত্যেককে একমাস করে সাজা দেয়া হয় এবং দুইজনকে অর্থদন্ড করা হয়। অভিযান শেষে ওই হোটেল দুটি সিলগালা করে পার্শ্ববর্তী হোতাপাড়া পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এসআই নাজমুল হাসানকে বুঝিয়ে দেয়া হয়ে ছিল।

এছাড়াও ওই সময় অসামাজিক কর্মকান্ডের অপরাধে হোটেল দুটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশনা দেয়া হয়ে ছিল সংশ্লিষ্ট বিভাগকে।

শেয়ার করুন