কালিয়াকৈরে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

0
2850
Print Friendly, PDF & Email

গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. আলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে এক নারীকে (২৫) ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। পরে অভিযোগ না করার জন্য ওই নারীসহ তার পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এ ঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় নারী ও নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অভিযুক্ত মো. আলাল উদ্দিন বোয়ালি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য।

ওই নারীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার ওই নারী কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকার খান ব্রাদার্স নামে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। গত রোজার ঈদে ওই কারখানার কাজ ছেড়ে দিয়ে তিনি স্থানীয় একটি বিউটি পার্লারে কাজ নেন। কিন্তু পার্লারের মালিক সালমা বেগম ওরফে নাজমা তাকে বিভিন্ন অনৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়ার জন্যে চাপ দিতে থাকেন। তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হয়ে কাজ ছেড়ে দিলে পার্লারের মালিক নাজমা তার বিরুদ্ধে ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণের গহনা নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ তোলেন।

পার্লারের মালিক বিষয়টি বোয়ালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. আলাল উদ্দিনকে জানান। এ ঘটনায় ইউপি সদস্য আলাল ওই নারীকে বিচারের জন্যে মৌচাক পার্লারে যাওয়ার কথা বলেন। গত ৪-৫ দিন আগে ওই ইউপি সদস্য আলাল তাকে মোটরসাইকেলে ওঠিয়ে মৌচাকে নেওয়ার কথা বলে উপজেলার সিনাবহ এলাকার আনন্দ পার্কে নিয়ে যান। পরে পার্কের একটি কক্ষে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষনের চেষ্টা চালায় ইউপি সদস্য আলাল।

একপর্যায়ে ওই নারী কৌশলে পার্কের রুম থেকে বেড়িয়ে গাড়িতে উঠে বাড়িতে চলে আসে। ওই নারী বিষয়টি তার বাবা-মাকে জানালে তারা স্থানীয় চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেনকে বিষয়টি জানান। ওই চেয়ারম্যান স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

পরে ঘটনাটি থানায় জানানোর চেষ্টা করলে ইউপি সদস্য আলালের লোকজন ওই নারীসহ তার পরিবারের সবাইকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশের সহযোগিতায় রোববার রাতে কালিয়াকৈর থানায় গিয়ে ওই নারী একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

বোয়ালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন জানান, বিষয়টি স্পর্শকাতর। সামাজিক ভাবে বিষয়টি মিমাংসাযোগ্য নয়। তাই দুইপক্ষ কি করবে সেটা তাদের ব্যাপার।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আলাল উদ্দিন জানান, ওই নারী প্রকৃতপক্ষে খারাপ স্বভাবের। তার ঝামেলাটি মিমাংসা করার জন্যে ওই নারীকে নিয়ে মৌচাক যাই। সেখান থেকে ওই নারী পালিয়ে যায়। তবে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগটি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন