টাকার অভাবে স্বামীর লাশ দেশে আনতে পারছেন না রহিমা

0
1740
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক নিউজ : টাকার অভাবে স্বামীর লাশ দেশে আনতে পারছেন না নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার রহিমা খাতুন নামে এক গৃহিনী। গত ৫ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার স্বামীর মৃত্যু হয়।

রহিমা খাতুন মৃত জয়নাল আবেদিনের স্ত্রী। তাদের বাড়ি উপজেলার শ্রীরামপুর উত্তর পাড়া এলাকায়। জয়নালের বাবার নাম আজগর আলী।
দুই ছেলে আর এক মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার ছিল জয়নাল আবেদিনের। অভাবের সংসারে সুখ আনতে ধার দেনা করে আট লাখ টাকার বিনিময়ে গোলাপ নামের স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে ২০১৫ সালের ২৪ অক্টোবরে সৌদি আরবে পাড়ি জমান জয়নাল আবেদিন।
সেখানে আল মুন্সি মাদ্রাসার অফিস পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসাবে কাজ শুরু করেন জয়নাল। বেতন ধরা হয় বাংলাদেশি টাকায় মাত্র ১২ হাজার টাকা।

কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, জয়নালের সেই আশার মুখে ঘুড়েবালি হয়ে মাত্র এক বছর ১০ মাসের মাথায়। গত ৫ সেপ্টেম্বর ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে সৌদি আরবের আল সাফা মক্কা হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জয়নাল।

রহিমা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, একমাস গত হইয়া গেলো আমার স্বামী মারা গেছেন, দেশে আনার জন্য নাকি তিন লাখ টেহা লাগে। আমি এহনো যাওনের সময়ের ঋণই শোধ করতে পারি নাই। এহন আবার লাশ দেশে আনার জন্য টেহা দেব কেমনে?
‘আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিলো বিদেশ থেকে টাহা আসলে কতকিছু করমু আর হইলো এর বিপরীত। দেশের কত বড় বড় লোক আছে কতজনের জন্য কতকিছু করে, এছাড়া প্রধানমন্ত্রীওতো দেহি কতজনের জন্য কতকিছু করেন। আমার স্বামীডারে কি কেউ দেশে আনার ব্যবস্থা করতে পারেনা’? এই কথাগুলো বলে বার বার মুর্ছা যায় জয়নালের স্ত্রী রহিমা।

মৃত জয়নাল আবদিনের শিশুপুত্র অন্তর মিয়া কান্না জড়িত কন্ঠে বলে, আমার বাবার লাশটি অনেক দিন ধইরা বিদেশে পইড়া আছে, কোন খোঁজ-খবর নাই, বাবার লাশটি দেশে আনার জন্য সরকারিভাবে আশ্বাস পাচ্ছিনা। সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে বাবার লাশটি আর দেখতে পারমুনা। তাই বাবার লাশটি দেশে আনার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।

নরসিংদী জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক মো. গোলাম মোস্তফা সরকার বলেন, নরসিংদীর রায়পুরার শ্রীরামপুরের জয়নাল নামে এক ব্যক্তি সৌদি আরবে মারা গেছেন মর্মে আমাদের অফিসে একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন তার স্ত্রী রহিমা বেগম। আবেদনে তার স্বামী জয়নাল আবদিনের লাশ সরকারি খরচে দেশে আনার জন্য উল্লেখ করেছেন। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত মাসের ২৬ তারিখে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এবিষয়ে রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি জেদ্দায় মোবাইলে খবর নিয়ে জানতে পারি, লাশ আনার জন্য কোনো টাকা পয়সা লাগেনা। এমনকি লাশ দেশে আসলে তার বিপরীতে সরকার তাকে আরো অর্থ দিয়ে থাকেন। আমি জয়নালের লাশ দেশে আনার প্রয়োজনীয় সকল প্রকার চেষ্টা চালাব।

শেয়ার করুন