কালিয়াকৈরে বেগম খালেদা জিয়ার রায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

0
1409
Print Friendly, PDF & Email

আলমগীর হোসেন : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে বন্দি থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে “জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট” মামলায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও একইসঙ্গে তাকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সাজা হয়েছে মামলার অপর তিন আসামিরও।

খালেদা জিয়ার পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত অপর তিনজন হলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

সোমবার (২৯ অক্টোবর) পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত–৫ এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

এ রায় ঘোষণার প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে সারাদেশের ন্যায় গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল ও কালিয়াকৈর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজনে নেতাকর্মীরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর বাইপাস এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল করে।

গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি শিবলু বকশীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলে এসময় উপস্থিত ছিলেন মোঃ মহসিন মোল্লা, মোঃ আব্দুল আউয়াল, মোঃ জয়নাল আবেদিন, মোঃ ওয়াসিম, মোঃ সোরহাব হোসেনসহ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মিরা ।

সাবেক প্রধান মন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ১/১১অবৈধ সরকারের দায়েরকৃত, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বর্তমান অবৈধ সরকারের নির্দেশিত ফরমায়েসী রায় উল্লেখ করে বিএনপি এ রায়কে প্রত্যাখান ও নিন্দা প্রকাশসহ সারাদেশে এর প্রতিবাদে ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা করা হয়। এ ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে মামলাটি করে দুদক।

তদন্ত শেষে ২০১২ সালে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদাসহ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শেষ হলে দুদকের পক্ষে এই মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।

তবে শুনানি চলাকালে খালেদা জিয়া একাধিকবার আদালতে হাজির হতে অনিচ্ছা দেখান। সবশেষ গত ২০ সেপ্টেম্বরও তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় তাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন বিচারক, একইসঙ্গে খালেদার অনুপস্থিতিতে বিচারিক কার্যক্রম চলবে বলে আদেশ দেন। এর বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে আবেদন করলে ১৪ অক্টোবর সেটি খারিজ হয়ে যায়। হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন খালেদা জিয়া। অন্যদিকে মামলার রায় ঘোষণার জন্য ২৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেন বিচারিক আদালত। সোমবার খালেদার করা লিভ টু আপিল সকালে খারিজ হওয়ার পর বিচারিক আদালত রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডাদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত–৫। ওই দণ্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেছেন বিএনপি প্রধান।

শেয়ার করুন