ভোটযুদ্ধের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিন: ফখরুল

0
1106
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক নিউজ : ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আন্দোলনেই দেশে স্বাধীন মানুষের পতাকা উড়বে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি দলের নেতাকর্মীদের ভোটযুদ্ধের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তাদের অবশ্যই আন্দোলনের অংশ হিসেবে এ নির্বাচনকে চূড়ান্ত জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

গত মঙ্গলবার রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৪তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, তার বয়স হয়ে গেছে, খুব ক্লান্তও হয়ে পড়েছেন। তারপরও তিনি বলতে চান, শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও এই সংগ্রাম করবেন, লড়াই করবেন বুকে বুক বেঁধে, কাদে কাদ রেখে। ইনশাআল্লাহ, ৩০ ডিসেম্বরের পরেই এ দেশে স্বাধীন মানুষের পতাকা উড়বে, কোনো দানবের পতাকা উড়বে না।

মামলা-মোকদ্দমায় জর্জরিত দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মুক্তির জন্য তাদের সব অস্ত্র ব্যবহার করতে হবে এবং সেই অস্ত্র হচ্ছে ভোটের অস্ত্র।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আজকে জনগণের কাছে চলে যান, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে আসেন, আপনাদের মতো আমিও যদি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ওই ভোটের দিনে ভোট দিতে যাই, তাহলে কোনো শক্তি নেই ঠেকিয়ে রাখতে পারবে। তাই পালিয়ে না বেড়িয়ে ভোটের জন্য যান, প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি যান এবং ভোটের দিন সবাইকে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে আসুন। ওইখানেই সব আন্দোলনকে নিবৃত করুন। তাহলেই জয়যুক্ত হবো ইনশাআল্লাহ।

দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, এক কঠিন সময়ে আছি। এই সময় অতিক্রম করতে হবে। দেশনেত্রী মিথ্যা মামলায় কারাগারে, হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাগারে, লক্ষ-লক্ষ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা। দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়াকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে বাধা, নির্মম অত্যাচার-নির্যাতন। এরপরও কি মুখ বুঝে বসে থাকব? এ অবস্থার পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা করব না? ১০ বছর চেষ্টা করছি। এখন শেষ চেষ্টা হচ্ছে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। আজ এ সুযোগ এসেছে। শৃঙ্খলমুক্ত হতে হলে ওই শৃঙ্খল ভেঙে ফেলতে হবে।

এসময় গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, তারেক রহমানকে ভালোবাসলে তার একটা প্রমাণ দিতে হবে। সেটা হচ্ছে সামনে ৩০ ডিসেম্বর ভোট। আপনাদের সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করে নিতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তবেই জনগণ ভোট দিতে পারবে, তারেক রহমানকে আপনারা দেশে আনতে পারবেন। যত অত্যাচার হোক, আরও যদি এক লাখ লোক গ্রেফতার হয় আপনারা কোনোভাবে ভোটের ময়দান ছেড়ে যাবেন না। রাতের বেলা আপনাকে নিয়ে গেলে ভোটকেন্দ্রে মাকে নিয়ে আপনার ভাইবোনকে দাঁড়াতে হবে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আজকে একটাই পথ আছে-জনগণের রায়ে এ সরকারকে বদলিয়ে দিতে হবে। ওরা সব ধরনের নির্যাতন করছে। একটা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর শত শত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার পৃথিবীর ইতিহাসে হয়নি। ওরা সেই ধরনের অত্যাচার-নির্যাতন করার পরেও আবার টেলিভিশনে প্রচার করে- থ্যাঙ্ক ইউ, পিএম।

তিনি বলেন, বিএনপির লাখ লাখ কর্মী। আপনাদের মানুষের দ্বারে দ্বারে যেতে হবে। যত মামলা থাকুক। স্লোগান তুলতে হবে- আসিতেছে শুভ দিন, ধানের শীষে ভোট দিন।

আলোচনা সভার প্রথমে তারেক রহমানের জীবন ও কর্মের ওপর ‘তুমি আছো নয়নে হৃদয়ের গহীনে’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে কণ্ঠশিল্পীরা তারেকের জন্মদিন উপলক্ষে একটি গান গেয়ে শোনান। ১৯৬৩ সালের ৩০ নভেম্বর তারেক রহমান জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৮ সাল থেকে চিকিৎসার জন্য সপরিবারে লন্ডনে অবস্থান করছেন তিনি।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর পরিচালনায় আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, জয়নাল আবেদীন, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও খায়রুল কবীর খোকন বক্তব্য দেন।

শেয়ার করুন