কালিয়াকৈরে পুলিশের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে আসামী ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ

0
2119
Print Friendly, PDF & Email

মো: শহিদুজ্জামান, নিজেস্ব প্রতিবেদক : গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার হরিণহাটি এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়া সোহেল হোসেন ওরফে লাজু (৩০) নামের এক আসামীকে গত বুধবার সকালে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। টাকার বিনিময়ে আসামী ছেড়ে দেওয়া ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম মনির হোসেন। তবে তিনি আসামী ছেড়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।

ঘটনা সূত্রে জানাযায়, কালিয়াকৈর পৌরসভার হরিণহাটি এলাকায় আব্দুল আলীমের (সার্ভেয়ার) বাসার একটি ভাড়া কক্ষে জাইদাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি তার স্ত্রী এবং মেয়ে জাহানারা আক্তারকে নিয়ে স্থানীয় একটি পোশাক তৈরির কারখানায় চাকুরি করতো। একই বাসার অপর আরেকটি কক্ষে গাইবান্ধা জেলা ও থানার ফুলবাড়িয়া গ্রামের বাবু মিয়ার ছেলে সোহেল হোসেন ওরফে লাজু দুই ভাই ভাড়া নিয়ে স্থানীয় ফারিষ্ট নামক অপর একটি পোশাক তৈরির কারখানায় চাকুরি করতো। একই বিল্ডিংয়ে পাশা পাশি কক্ষ থাকায় জাহানারা আক্তার এর সাথে লাজু মিয়ার সম্পর্ক গড়ে উঠে। সম্পর্কের জের ধরে সোহেল হোসেন ওরফে লাজু জাহানারা আক্তারের সাথে জোড়পূর্বক একাধিকবার যৌন মিলন ঘটায়। দীর্ঘ তিন বছর ধরে এরকম সম্পর্ক গড়ে উঠায় জাহানারা আক্তার সোহেল হোসেন ওরফে লাজুকে বিয়ে করার তাগিদ দেয়। কিন্তু সোহেল হোসেন ওরফে লাজুর বউ থাকার কারণে জাহানারা আক্তারকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় গত ৩১মার্চ ২০১৯ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে কালিয়াকৈর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মনির হোসেন গত মঙ্গলবার সোহেল হোসেন ওরফে লাজুকে গ্রেফতার করেন। পরে সারারাত থানায় আটকিয়ে রেখে বুধবার সকালে সোহেল হোসেন ওরফে লাজুর আত্মীয় স্বজন ও ছোট ভাই সাজু মিয়ার মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেন। ওই ঘটনা থানাসহ বাদীর কাছে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা খোঁজ খবর নিতে থাকেন।

জাহাহানা আক্তার জানান, সোহেল হোসেন ওরফে লাজু আমাকে বিয়ের প্রভোলন দেখিয়ে গত তিন বছর ধরে তার চাকুরির বেতন নিয়ে নেয় এবং সোহেল হোসেন ওরফে লাজু তাকে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যৌন মিলন করে। ৩০ মার্চ ফোনে তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিলে সোহেল হোসেন ওরফে লাজু অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ওই পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে না জানিয়ে গ্রেফতারকৃত আসামী সোহেল হোসেনকে ছেড়ে দেয়। আমি সোহেল হোসেন ওরফে লাজুর বিচার চাই।

বাদী পোশাক কর্মী জাহানারা আক্তারের বাবা জাইদাল মিয়া জানান, সকালে ওই পুলিশ কর্মকর্তা ফোনে আসামী লাজুকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন এবং আমাদেরকেই লাজুর নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বলেন। এছাড়া তিনি এ বিষয় নিয়ে যেন আসামী সোহেল হোসেন লাজুর সাথে আর কোন ধরনের ঝামেলা না করি তা বলেন। আসামীকে পুলিশ আপোষ মীমাংসা ছাড়াই আসামী সোহেল হোসেন ওরফে লাজুকে ছেড়ে দিয়েছেন। তবে আসামী পক্ষের লোকজন বলছিল পুলিশকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে লাজুকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে।

আসামীর ছোট ভাই সাজু মিয়া জানান, আমার পাশের রুমের আদম আলীর বোন থানায় চাকুরি করে। আমরা তার মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা পুলিশের ওই কর্মকর্তার কাছে দিলে পুলিশ সোহেল হোসেন ওরফে লাজুকে ছেড়ে দেয়।
অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মুনির হোসেন জানান, বাদী-বিবাদি মিমাংসা হয়ে যাওয়ায় আসামী ছেড়ে দিয়েছি। টাকা নেওয়ার অভিযোগ সত্য না।

কালিয়াকৈর থানার ওসি আলমগীর হোসেন মজুমদার জানান, আমি বিষয়টি সরাসরি দেখি নাই। তবে আমার পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছিল যে দুই পক্ষ মীমাংসা হয়ে এসেছে। বাদীর কোন অভিযোগ থাকলে তাকে থানায় আসতে বলেন। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো।

শেয়ার করুন