আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা

0
1254
Print Friendly, PDF & Email

গাজীপুর প্রতিদিন ডেস্ক : গাজীপুর টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা ১১টা ৪৯ মিনিটে আখেরি মোনাজাত শুরু হয় বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের । মোনাজাত পরিচালনা করছেন মাওলানা জমশেদ। এতে অংশ নিয়েছেন ধর্মপ্রাণ লাখো লাখো মুসল্লি।

দ্বিতীয় পর্বের এই ইজতেমায় মাওলানা সা’দ এর অনুসারি দেশি-বিদেশি কয়েক লাখ মুসল্লি অংশ নেন। বাদ ফজর ভারতের মাওলানা ইকবাল হাফিজের আম বয়নের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শেষ দিনের কার্যক্রম। তার বয়ান বাংলায় তরজমা করছেন বাংলাদেশের মাওলানা ওয়াসিফুল ইসলাম। আখেরি মোনাজাতের আগে সমবেত মুসল্লিদের উদ্দেশ্য হেদায়েতি বয়ান দেয়া হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভারতের মাওলানা জমশেদ হেদায়েতি বয়ান শুরু করেন। তার বয়ান বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের আশরাফ আলী।

মোনাজাতে অংশ নিতে রোববার ভোর থেকে লাখো মুসল্লি টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে আসেন। মুসল্লিদের আগমনে টঙ্গী শহর, ইজতেমাস্থল ও এর আশপাশ এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এছাড়া বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে রোববার সকাল পর্যন্ত বিশ্বের ৫৫টি দেশের ২ হাজার ৪১০ জন বিদেশি মুসল্লি অংশ নিয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো: মনজুর রহমান।

আখেরি মোনাজাতে মুসল্লিরা দেশ, জাতি ও মানবতার জন্য দোয়া করছেন। বিশ্ব শান্তি ও কল্যাণ চেয়ে মহান আল্লাহর দরবারে আকুতি জানাচ্ছেন। জানাচ্ছেন পাপ থেকে মুক্তির মিনতি। মুসল্লিরা জানিয়েছেন, ইজতেমার শিক্ষা তারা চারদিকে ছড়িয়ে দেবেন। ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে তা কাজে লাগাবেন। আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছিল। ইজতেমার মাঠজুড়ে বিশাল শামিয়ানার নিচে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে অবস্থান করছেন অংশগ্রহণকারী চিল্লাধারী সাথিরা। মুসল্লিরা সবাই নিজের মতো করে শৃঙ্খলা মেনে চলেছেন।

বিশ্ব ইজতেমার আয়োজক কমিটির মুরুব্বি মাওলানা আশরাফ আলী জানান, সকাল থেকে ইজতেমায় বয়ান করছেন ভারতের মাওলানা ইকবাল হাফিজ। ইমান, আখলাক, দিনের ওপর মেহনত, ইসলামকে শক্তিশালী করা, সব ভেদাভেদ ভুলে নিজের দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা, নবীওয়ালা কাজে দিন ও সময় ব্যয় করা, পৃথিবীতে শান্তির বাণী ছড়িয়ে দেওয়া, ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করা, নামাজ-রোজা ও আল্লাহর ইবাদত পালনের ওপর বয়ান পেশ করা হয়। তিনি বলেন, যে ইসলামের বিধান অনুসারে চলবে এবং হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করবে, সে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জন করবে। ইমানকে শক্তিশালী করতে হলে মানুষকে মসজিদের পরিবেশে বসাতে হবে। মুসলমানের নামাজ ছাড়ার প্রশ্নই আসে না। নামাজ এমনভাবে আদায় করতে হবে, যেমন নবী করিম (সা.) আদায় করেছেন। জোর-জবরদস্তি করে নয়, তাজিমের সঙ্গে বুঝিয়ে কাউকে মসজিদে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের প্রত্যেকটি কাজ আল্লাহকে রাজি ও খুশি করার জন্যই করতে হবে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাঁচ স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। গাজীপুর জেলা তথ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, বিশেষ ব্যবস্থাপনায় আখেরি মোনাজাত প্রচার জন্য গণযোগাযোগ অধিদফতর ইজতেমা ময়দান থেকে আবদুল্লাহপুর-বিমানবন্দর রোড পর্যন্ত এবং জেলা তথ্য অফিস ইজতেমা ময়দান থেকে চেরাগাআলী, টঙ্গী রেলস্টেশন, স্টেশন রোড ও আশপাশের অলিগলিতে পর্যাপ্ত মাইক সংযোগের ব্যবস্থা রাখা হয়।

শেয়ার করুন