ঈদে মানুষ ছুটছে বাড়ির দিকে মহাসড়কে যাত্রির ঢল

0
76
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক নিউজ : প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে সব শ্রেনীপেশার মানুষ ছুটছে বাড়ির দিকে। ফলে গাজীপুরের কালিয়াকৈর চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় ঘরমুখো যাত্রীদের ঢল নেমেছে। সড়কে এবং বাস কাউন্টারগুলোতে রয়েছে মানুষের উপছে পরা ভিড়। মানুষের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশও মানছে না অনেকে। এমন পরিস্থিতে সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার যে নির্দেশনা সে উদ্দেশ্যই নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে মানুষে মানুষে ভিড় তৈরী করে গাদাগাদি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার কারণে দেশব্যাপী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করেছেন কেউ কেউ।

সোমবার (১৯জুলাই) উপজেলার চন্দ্রা এলাকার সড়কে এবং যাত্রীবাহি বাস কাউন্টারগুলোতে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে উপজেলার চন্দ্রাত্রিমোড় এলাকায় ঘর মুখো মানুষের তেমন ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি। তবে বেলা বারার সাথে সাথে দুপুর থেকে যাত্রিদের চাপ বাড়তে বাড়তে বিকেলের দিকে পুরো চন্দ্রা এলাকা জনসমুদ্রে পরিনত হয়। এক সাথে এত মানুষ বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলে লোক যাত্রিবাহি পরিবহনের সংকট দেখা দেয়। এর মধ্যে দুপুরের পর হতে থেমে থেমে বৃষ্টি। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই বিকেল ৩টার পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ চন্দ্রার দিকে হেটে যেতে দেখা গেছে। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে ভয়াবহ যানজট তৈরি হয়।

অন্যদিকে দূরপাল্লার অনেক গণপরিবহন আগে থেকেই বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং কোম্পানি রির্জাভ করে নিয়েছে। যার ফলে এত এত সংখ্যক যাত্রির জন্য পর্যাপ্ত পরিবহনের সংকট দেখা দিয়েছে। এমন্তাবস্তায় পরিবহন সংকটে সাধারন যাত্রীদের ভোগান্তি পৌঁছেছে চরমে। কেউ কেউ বাস কাউন্টারে এসে বাসের টিকেট না পেয়ে মহাসড়কে এসে মাইক্রোবাস, ট্রাক, পিকআপ ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন বাহনে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌছানোর চেষ্টা করছে। কোথাও কোথাও যাত্রিদের বাসে উঠতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কি করতে দেখা গেছে। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি কাউকে।

পাবনাগামী শ্যামলী পরিবহনের যাত্রী পারভেজ মিয়া বলেন, ‘আমাদের অফিস গতকাল (রবিবার) ছুটি দিয়েছে। আজ দুপুরের পর বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে ছোট ভাই এবং স্ত্রীকে নিয়ে বাস কাউন্টারে এসে প্রায় ১ঘন্টা ধরে বসে আছি, বাস আসলে বাড়ি যাব। গত রোজার ঈদে মহামারি করোনার জন্য মহাসড়কে গাড়ি না চলায় বাড়ি যেতে পারিনি। এবার ঈদে মহাসড়কে গনপরিবহন থাকায় সাচ্ছন্দে বাড়ি যেতে পারছি। এতে অনেক ভাল লাগছে।
রংপুরগামী হানিফ পরিবহনের যাত্রি ফাতেমা জানান, অনেক কষ্টে বাসের দুটি টিকেট পেয়েছি। আমি আমার ছেলেকে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি। পরিবার পরিজনদের নিয়ে একসাথে ঈদ করতে। তাছাড়া ঢাকায় থাকলে করোনা হওয়ার সম্ভবনাও বেশি, বাড়িতে গেলে একেবারে নিরাপদে থাকব।

সালনা (কোনাবাড়ি) হাইওয়ে থানার ওসি মীর গোলাম ফারুক জানান, সোমবার সকাল থেকেই মানুষ বাড়ি ফিরতে চন্দ্রা এলাকায় আসছে। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিকেল পর্যন্ত চন্দ্রা এলাকায় ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সড়কের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যাত্রিরা যেন নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে সেই লক্ষ্যে আমাদের হাইওয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া চন্দ্রা এলাকায় ঘরমুখো মানুষের কোন কিছু যাতে চুরি, ছিন্তায় না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের কয়েকটি টহল টিম পুরো চন্দ্রা এলাকায় সর্বক্ষন নজরদারিতা করছে। এছাড়া যাত্রিরা যেন সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে বাড়ি ফিরতে পারে সেদিকেও আমরা লক্ষ্য রাখছি।

শেয়ার করুন